বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ আব্দুল বাছির সরদার:
দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টি থাকার পরও মৌসুমের শুরুতেই এ বছর আমগাছে ভরে গেছে মুকুল। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ছে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৯০ শতাংশ আমগাছ। উঠোন, বাড়ির আঙিনা, সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ৫৩ হেক্টরের ব্যক্তি মালিকানাধীন এসব আমগাছে প্রতি বছরই এই মৌসুমে আম আসে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হলেও এ বছর আমের জন্য আবহাওয়া ভালো। সরেজমিন দিরাই উপজেলার সাকিতপুর, চান্দিপুর, সুজানগর, উত্তর চান্দপুর, চান্দপুর, দিরাই পৌরশহরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।
আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ বাতাসে ভাসছে। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই কুহুতানে মাতাল করতে আবারও এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আম গাছে ফুটেছে নতুন মুকুল। আবহমান গ্রাম-বাংলায় সাধারণত আগাম জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। তেমনি ঋতুরাজ বসন্ত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আমগাছের মুকুলে জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তার।
জেলার দিরাই, শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে দেখা যায়, থানার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, পুকুরপারে রাস্তার কিনারে সর্বত্রই আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদ রঙ ধারণ করতে চলেছে। ধীরে-ধীরে আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে গাছের প্রতিটি ডাল। সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কোনো ধরণের পরিচর্যা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা এসব আমগাছ থেকে দেশীয় আমের স্বাদ পাওয়া যায়। কোনো ধরণের মেডিসিন ছাড়াই একেবারে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা গাছে বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যায়। টক-মিষ্টির মিশেলে এসব দেশীয় আমের কোনোটিতে পোকার আক্রমণ থাকলেও স্বাদের মধ্যে কমতি নেই। কৃষি অফিসের মতে, এসব আমগাছের সঠিক পরিচর্যা করলে আমের বাম্পার ফলন হবে। তবে দিরাইয়ে কি পরিমাণ আম উৎপাদন হয়, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই সংশ্লিষ্ট অফিসে।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে মাঘ মাস শেষ। ফাল্গুন মাসের শুরুতে প্রতিটি গাছে পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু হয়েছে। তারা আরো জানান, এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ না হলেও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন প্রকার চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করে থাকেন।
স্থানীয়রা আরো জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে আমের মুকুল আগে পরে যে আবহাওয়া প্রয়োজন তা এখনো বিরাজমান রয়েছে। এবার ভালো আবহাওয়ার কারণে আমগাছে আগাম মুকুল এসেছে। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে।
দিরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, প্রাকৃতিকভাবে ৪৫ শতাংশ মুকল ঝরে পড়ে। বেশি ঝরলে মিরাকুলান নামক ঝরারোধক স্প্রে করতে হবে। তিনি আরো জানান, দিরাইয়ের মাটি স্থানীয় আম বাগানের জন্য উপযোগী। পারিবারিকভাবে ৫৩ হেক্টরের মতো জমিতে আম বাগান আছে। ২ হেক্টর জমিতে আম্রপালী, বারি আম-৪ একক জাতের আম বাগান রয়েছে। বর্তমানে দিরাইয়ে ৮৪ হাজার ৫শটি আম গাছ রয়েছে বলে জানান দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।